চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সকল তথ্য (যেকোনো পরিক্ষার জন্য)

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিচিতি

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুরাতন নাম কিঃ গৌড়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কোন নদীর তীরেঃমহানন্দা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিষ্ঠা হয় কবেঃ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১ মার্চ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয় কবেঃ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১ নভেম্বর।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থানা প্রতিষ্ঠা হয় কবেঃ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আয়তন কতঃ ১,৭০২,৫৬ বর্গ কিলোমিটার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমানাঃসর্ব পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের পূর্বে রাজশাহী ও নওগাঁ জেলা, উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলা, পশ্চিমে পদ্মা নদী ও মালদহ জেলা এবং দক্ষিণে পদ্মা নদী ও মুর্শিদাবাদ জেলা (পশ্চিমবঙ্গ)।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভৌগোলিক অবস্থানঃ ২৪°২২′ হতে ২৪°৫৭′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৭°৫৫ হতে ৮৮°২৩´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৬° সেলসিয়াস ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কতঃ১৮০০ মিলিমিটার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার উপজেলা কয়টি ও কি কিঃ ৫টি; চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় থানা কয়টিঃ ৫ টি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পৌরসভা কয়টি ও কি কিঃ ৪ টি চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শিবগঞ্জ, রহনপুর ও নাচোল

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ইউনিয়ন কয়টিঃ ৪৫টি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পোস্ট কোড কতঃ ৬৩০০।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার এন ডব্লিউ ডি কোড কতঃ ০৭৮১।

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দূরত্ব কতঃ সড়ক পথে ৩২০ কি. মি. ও রেলপথে ৩৫১ কি.মি. ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জনসংখ্যা কতঃ ১৬,৪৭,৫২১ জন (২০১১ খ্রিস্টাব্দের আদমশুমারী অনুযায়ী) ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব কতঃ  ৯৬৮ জন (প্রতি বর্গ কি. মি.) ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কতঃ১.৪৪%

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সাক্ষরতার হার কতঃ ৬৭%

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার উপজাতিঃসাঁওতাল, ওরাও, রাজোয়ার, রায়, সিং, রাজবংশী, রাগতী, সীল, কর্মকার, পাল প্রভৃতি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রধান ফসল কি কিঃ ধান, পাট, ইক্ষু, গম, পান, তেলবীজ, টমেটো, পান, ডাল, প্রভৃতি।

প্রধান ফলমূল কি কিঃ আম, কুল, পেয়ারা, লিচু, কাঁঠাল, তরমুজ, জাম, লিচু, তাল প্রভৃতি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার খনিজ সম্পদ কিঃ উল্লেখযোগ্য কোন খনিজ সম্পদ নেই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পত্র পত্রিকাঃ দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি, সাপ্তাহিক চাঁপাই প্রতিদিন, সাপ্তাহিক সোনা মসজিদ ইত্যাদি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নদ-নদীঃ ৪টি; পদ্মা, মহানন্দা, পুনর্ভবা ও পাগলা ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসকঃ আপডেট জেনে নিবেন।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নামকরণ

 

২০০১ খ্রিস্টাব্দের ১ আগস্ট সরকারিভাবে ‘নবাবগঞ্জ জেলার নাম পরিবর্তন কারে “চাঁপাইনবাবগঞ্জ’ রাখা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নামকরণ সম্পর্কে জানা যায়, প্রাক-ব্রিটিশ আমলে এ অঞ্চল ছিল মুর্শিদাবাদের নবাবদের বিহারভূমি এবং এর অবস্থান ছিল বর্তমান সদর উপজেলার দাউদপুর মৌজায়। বলা হয়ে থাকে যে, বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব সরফরাজ খাঁ (১৭৩৯-৪০ খ্রি.) একবার শিকারে এসে যে স্থানটিতে ছাউনি ফেলেছিলেন সে জায়গাটিই পরে নবাবগঞ্জ নামে পরিচিত হয়ে উঠে। তবে অধিকাংশ গবেষকের মতে, নবাব আলীবর্তী খাঁর আমলে (১৭৪০-৫৬ খ্রি.) নবাবগঞ্জ নামকরণ হয়। অষ্টাদশ শতকের প্রথম ও মধ্যভাগে বর্গীদের ভয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকজন ব্যাপকভাবে এ এলাকায় এসে বসতি স্থাপনের ফলে স্থানটি এক কর্মব্যস্ত জনপদে পরিণত হয়। কালক্রমে নবাবগঞ্জের নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। নবাবগঞ্জের ডাকঘর চাপাই গ্রামে অবস্থিত হওয়ায় নবাবগঞ্জ তখন “চাপাইনবাবগঞ্জ’ নামে পরিচিত হয়। ইতিহাসসূত্রে এই ‘চাঁপাই’ নামকরণের ব্যাপারে পুরকম জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে

১. বর্তমান নবাবগঞ্জ শহর থেকে ৫/৬ মাইল দূরে মহেশপুর গ্রামে নবাব আমলে ‘চম্পাবতী’ মতান্তরে ‘চম্পারানী’ বা ‘চম্পাবাঈ’ নামে এক সুন্দরী বাঈজি বাস করতেন। তাঁর নৃত্যের খ্যাতি আশেপাশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি নবাবদের প্রিয়পাত্রী হয়ে ওঠেন। তাঁর নামানুসারে এই জায়গার নাম ‘চাঁপাই’ হয় বলে অনেকে মনে করেন।

২. “চাপাই’ নামকরণের আর একটি প্রচলিত মত হচ্ছে- এ অঞ্চল রাজা লক্ষীন্দরের বাসভূমি ছিল। লক্ষীন্দরের রাজধানীর নাম ছিল চম্পক। কোন কোন গবেষক চাপাইকে লক্ষীন্দরের স্ত্রী বেহুলার শ্বশুরবাড়ি চম্পকনগর বলে স্থির করেছেন এবং মত দিয়েছেন যে, চম্পক নাম থেকেই চাঁপাই নামের উৎপত্তি।

ঐতিহ্য: আম ও আমবাগান (২১,৯০০ হেক্টর জমিতে), গৌড়ের বিখ্যাত ছোট সোনা মসজিদ, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের সমাধি, তিন গম্বুজ মসজিদ প্রভৃতি।

 

বিখ্যাত স্থান ও পুরাকীর্তি 

ছোট সোনা মসজিদ: শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে বিশাল এক দীঘির দক্ষিণপাড়ের পশ্চিম অংশ জুড়ে গৌড়ের বিখ্যাত ছোট সোনা মসজিদ অবস্থিত। এটি ‘সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন’ বলে খ্যাত। এ মসজিদের প্রধান প্রবেশ পথের উপরিভাগে স্থাপিত একটি শিলালিপি অনুযায়ী জনৈক মজলিস-ই-মাজালিস মজলিস মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়। শিলালিপিতে নির্মাণের সঠিক তারিখ সম্বলিত অক্ষরগুলো মুছে গেছে। তবে এতে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এর নামের উল্লেখ থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, মসজিদটি তার রাজত্বকালের (১৪৯৪-১৫১৯) কোন এক সময় নির্মিত। মসজিদ প্রাঙ্গণের অভ্যন্তরে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর নাজমুল হকের কবর রয়েছে।

 

তিন গম্বুজ মসজিদ ও তাহখানা: শিবগঞ্জ উপজেলার ফিরোজপুরস্থিত শাহ নেয়ামতউল্লাহ (রহঃ) প্রতিষ্ঠিত তদীয় সমাধি সংশিষ্ট তিন গম্বুজ মসজিদটি মোঘল যুগের একটি বিশিষ্ট কীর্তি। এতে ৩টি প্রবেশ পথ এবং ভেতরে ৩টি মেহরাব রয়েছে। এই মসজিদ সংলগ্ন দক্ষিণ পার্শ্বে সুলতান শাহ সুজা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দ্বিতল ইমারত মোঘল যুগের আর একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য কীর্তি। ইট নির্মিত ইমারতটি তাহখানা নামে প্রসিদ্ধ।

 

কানসাটের জমিদার বাড়ি: শিবগঞ্জ উপজেলার প্রাচীন গ্রাম কানসাটে এর অবস্থান। এখানকার জমিদারগণ মুসলিম বিদ্বেষী হিসেবে কুখ্যাতি লাভ করেন। জমিদারি কার্য ছাড়াও এরা হাতি বেচাকেনা করতেন। আসামে এদের একটি ‘খেদা’ ছিল।

 

এছাড়াও রয়েছে দারসবাড়ি মসজিদ, খঞ্জনদীঘির মসজিদ, চামচিকা মসজিদ, তিন গম্বুজ মসজিদ, শাহ নেয়ামত উলাহ (রহঃ) মাজার, কোতোয়ালী দরওয়াজা, চাপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের বাবু ডাইং, গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে ষাঁড়বুরুজ, নওদা বুরুজ, এক গম্বুজ বিশিষ্ট পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, শাহপুর গড়, ভোলাহাট উপজেলার জাগলবাড়ি ঢিবি (৮ম শতাব্দী), ছোট জামবাড়িয়া দারুস সালাম জামে মসজিদ, বড়গাছী দক্ষিণ টোলা বাজার জামে মসজিদ, রেশম কুটির ও চিমনি, নাচোল উপজেলার রাজবাড়ি, আলী শাহপুর মসজিদ, কেন্দুয়া ঘাগুড়া মসজিদ, কলিহার জমিদার বাড়ি, মলিকপুর জমিদার বাড়ি, দাখিল দরওয়াজা (১২২৯ খ্রি.) শাহ সুজার কাছাড়ি বাড়ি ( ১৬৩৯-১৬৬০ খ্রি. মধ্যে নির্মিত), সদর উপজেলার চাঁপাই জামে মসজিদ (৮৯৩ হিজরিতে নির্মিত), মহারাজপুরের প্রাচীন মসজিদ (মুঘল আমলে নির্মিত), মাঝপাড়া প্রাচীন মসজিদ (১৭৭৫ খ্রি. নির্মিত), রামচন্দ্রপুর হাটের নীলকুঠি (১৮৫৯-৬১ খ্রি., নীল বিদ্রোহের সাক্ষী), বারঘরিয়া কাছাড়ি বাড়ি (বর্তমানে বিলুপ্ত), বারঘরিয়া ও মহারাজপুর মঞ্চ, জোড়া মঠ প্রভৃতি।

 

বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব 

 

ইলা মিত্র: মহিয়সী নারী ইলা মিত্রের জন্য ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ অক্টোবর ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাসে জড়িয়ে আছে তাঁর নাম। চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার রামচন্দ্রপুরের জমিদার বাড়ির ছেলে রমেন্দ্রনাথ মিত্রের সঙ্গে ইলা সেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি ইলা মিত্র নামে পরিচিত হন। ইলা ছিলেন ভারতের একজন চ্যাম্পিয়ন অ্যাথলেট। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে বৃটিশ শাসনের শেষ দিকে ফ্লোড কমিশন রিপোর্ট বাস্তবায়ন এবং কৃষকদের জমি ভাগাভাগির বিষয় দু’টি নিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনে নাচোলের কষকরাই ছিল আন্দোলনের পুরোভাগে। এই আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিল সাঁওতালরা। এই আন্দোলনই আজ ইতিহাসে ‘নাচোল বিদ্রোহ’, ‘তেভাগা আন্দোলন’ বা ‘নাচোলের কৃষক আন্দোলন” ইত্যাদি নামে পরিচিত। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ইলা মিত্র।

 

রফিকুন্নবী (রনবী): জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী রফিকুন্নবী শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দেশের নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অবহেলিত মানুষের পক্ষ থেকে প্রতিবাদী চিত্র ‘টোকাই’র স্রষ্টা রনবী বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন ।

এছাড়াও রয়েছেন নীল বিদ্রোহের নায়ক দিয়ানতুল্লাহ চৌধুরী ওরফে লুকা চৌধুরী, দানশীল ও সমাজসেবী গিরিশ চন্দ্র সিংহ, ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতা রফিক মণ্ডল, গণিতজ্ঞ প্রফেসর আব্দুর রহিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. মনিরুজ্জামান মিঞা ও ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ, খ্যাত নাট্যকার মমতাজ উদ্দিন আহমদ, তেভাগা আন্দোলনের নেতা রমেন মিত্র (হাবু বাবু), গম্ভীরার জনক কুতুব উদ্দিন, ড. জহুরুল হক, বাবু অভয় প্রদ মুখার্জী প্রমুখ চাঁপাইনবাবগঞ্জের

 

বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা:

  • মেজর নাজমুল হক
  • মেজর গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী
  • লে. রফিকুল ইসলাম
  •  আব্দুল কাইয়ুম খান প্রমুখ।

সংসদীয় আসন- ৩টি।

৪৩,চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১,শিবগঞ্জ উপজেলা।

৪৪,চাপাইনবাবগঞ্জ-২,নাচোল,ভোলাহাট গোমস্তাপুর উপজেলা।

৪৫,চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩,চাপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button