হতাশা থেকে মুক্তির উপায়

মানসিক চাপ থেকে মুক্তির উপায়

হতাশা থেকে মুক্তির উপায়

মানব জীবনে হতাশা কোন নতুন শব্দ নয়।  জীবনে চাওয়া না পাওয়ার মধ্যে মিল না থাকলেই অনেকের জীবনে মানসিক চাপ নেমে আসে। যে কোন মানুষের জীবনে যে কোন সময় হতাশা আসতে পারে। হতাশা এমন শব্দ যা মানুষের জীবনকে শেষ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

তাই, জীবনে যাই হোক না কেন, হতাশ হওয়া যাবেনা। যদি জীবনে হতাশা চলে আসে, হতাশাকে স্থায়ী হতে দেওয়া যাবেনা। হতাশ না হয়ে সর্বাবস্থায় যা পাওয়া য়ায় তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, হতাশাকে স্থায়ী হতে দিলে জীবন থেমে যেতে পারে। বরং যা পেয়েছি তা নিয়ে সামনের দিকে আগাতে হবে। তাহলে বিজয় নিশ্চিত।

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা হতাশার কারণে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগ হতে পারে। অনেকেতো হতাশায় আবার আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেয়। এজন্য, যতটা সম্ভব অতিরিক্ত হতাশা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। মানসিক চাপ থেকে মুক্তির উপায় বের করতে চাইলে আগে নিজের স্থির করুন। এক্ষেত্রে কিছু উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে-

হতাশা থেকে মুক্তির উপায় সমূহ-

হতাশার কারণ খুঁজে বের করা-

হতাশা থেকে ‍মুক্তি পেতে হলে প্রথমে হতাশার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। অনেকে আছেন জীবনে হতাশ, কিন্ত কী নিয়ে হতাশ এটা জানেন না। তাই, হতাশা থেকে মুক্তি পেতে হলে হতাশার কারণ খুঁজে বের করতে হবে।

দুশ্চিন্তাকে প্রশ্রয় না দেয়া-

মানব জীবনের যে কোন সময় হতাশা আসতে পারে। তবে, হতাশাকে কখনই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। মনে করতে হবে, যেসব সমস্যার কারণে হতাশা এসেছে, এগুলো সমাধান করা সম্ভব। যেসব বিষয নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তা হচ্ছে সেগুলোর তালিকা তৈরি করুন। তারপর কীভাবে এই সমস্যা দূর করা যায় তার উপায় লিখুন। এতে করে আপনার সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়াও সহজ হবে।

ভ্রমন করা-

হতাশা বা মানসিক চাপ যাই হোক না কেন। এর থেকে বেরিয়ে আসার প্রধান উপায় হলো ঘুরতে যাওয়া। ভ্রমন করলে মন ফ্রেশ হয়। মানসিক শান্তি আসে। ফলে হতাশা বা মানসিক চাপ কমে যায়।

গান শোনা-

মানসিক চাপ থেকে মুক্তির জন্য গান ভালো কাজ করে। গান শুনলে মন ভালো হয়।তাই, মানসিক চাপ বা হতাশা কমাতে পছন্দের গান শুনুন। আপনি চাইলে মুভিও দেখতে পারেন্। মোটকথা, নিজের মনকে ভালো করার জন্য যা মন চায় করুন।

বই পড়া-

বই আপনার হতাশাকে বিদায় জানাতে পারে। বই জগতের সেরা বন্ধু। ভালো বই মানে ‘মনের খাদ্যদাতা’। বই পড়লে আপনার মধ্যে শক্তি ফিরে আসে। তাই, আপনার যেসব বই পছন্দ সেসব বই পড়ুন। অল্প সময়ের জন্য হলেও বই পড়া প্রয়োজন।

পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে-

পুষ্টির অভাবে অনেক সময় মানসিক চাপ বেশি করে আঁকড়ে ধরে। তাই, প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। সম্ভব হলে ফাস্ট ফুড খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিন। বেশি মসলাযুক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো। ফলমূল খান। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।

ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকরী-

মানসিক চাপ কমাতে ব্যায়ামের জুড়ি নেই। নিয়মিত ব্যায়াম করলে স্নায়ু সচল হয়। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়। নতুন কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। হতাশা কমে যায়। তাই দুশ্চিন্তার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ব্যায়াম করুন।

পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে-

মানসিক চাপে থাকলে অনেকের ঠিকমতো ঘুম হয় না। এরফলে শরীর অনেক ক্লান্তি লাগে, সারাদিন ঝিমুনি ভাব থাকে। তাই, শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষের দৈনিক অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন।

সামাজিকতা বাড়াতে হবে-

মানুষ মানুষের বন্ধ। তাই, মানুষের সমস্যায় এগিয়ে যেতে হবে। তেমনি নিজের সমস্যায় অন্যের সাহায্য নিতে হবে। প্রিয় মানুষের কাছে গিয়ে দু-চার কথা বললে এমনিতেই মন হালকা লাগে। তাই মন খারাপ থাকলে বন্ধুদের সাথে মিশতে হবে। তাদের সাথে আড্ডা দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button