মেহেরপুরা জেলার সকল তথ্য (যে কোন পরিক্ষার জন্য)

মেহেরপুর জেলা পরিচিতি

মেহেরপুর জেলা পরিচিতি

মেহেরপুর জেলা প্রতিষ্ঠা করা হয় কবেঃ ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ২৪ ফেব্রুয়ারি।

মেহেরপুর মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয় কবেঃ ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে (মতান্তরে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে)।

মেহেরপুর থানা প্রতিষ্ঠিত হয় কবেঃ ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে।

মেহেরপুর জেলার আয়তন কতঃ ৭১৬ বর্গ কিলোমিটার।

মেহেরপুর জেলার সীমানা উত্তরে কুষ্টিয়া জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, দক্ষিণে চুয়াডাঙ্গা জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, পূর্বে কুরিয়া চুয়াডাঙ্গা জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।

মেহেরপুর জেলার ভৌগোলিক অবস্থানঃ ২৩°৪৪´ থেকে ২৩°৫৯’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ ৩৪ থেকে ৮৮°৫৩’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।

মেহেরপুর জেলার বার্ষিক গড় তাপমাত্রাঃ সর্বোচ্চ ৩৭.১° সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ১১.২° সেলসিয়াস।

মেহেরপুর জেলার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কতঃ ১৪ সে.মি.।

সমুদ্রতল হতে মেহেরপুর জেলার উচ্চতা কতঃ ১০.৫ মিটার ।

মেহেরপুর জেলায় উপজেলা কয়টি ও কি কিঃ ৩টি; মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর ও গাংনী ।

মেহেরপুর জেলায় পৌরসভা কয়টি ও কি কিঃ ২টি; মেহেরপুর ও গাংনী ।

মেহেরপুর জেলায় ইউনিয়ন কতটিঃ ১৮টি।

মেহেরপুর জেলায় থানা কতটিঃ ৩টি।

মেহেরপুর জেলার পোস্ট কোড কতঃ ৭১০০

মেহেরপুর জেলার এন ডব্লিউ ডি কোড কতঃ ০৭৯১ ।

ঢাকা থেকে মেহেরপুর জেলার দূরত্ব কতঃ সড়ক পথে ২৯৬ কি. মি. (রেলপথ নেই)।

মেহেরপুর জেলার জনসংখ্যা কতঃ ৬,৫৫,৩৯২ জন (২০১১ খ্রিস্টাব্দের আদমশুমারী অনুযায়ী)।

মেহেরপুর জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব কতঃ ৮৭০ জন (প্রতি বর্গ কি.মি.) ।

মেহেরপুর জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কতঃ ১.০২%

মেহেরপুর জেলার শিক্ষার হার কতঃ ৪৬.৩

মেহেরপুর জেলার প্রধান ফসল কি কিঃ ধান, পাট, আখ, তামাক, পেঁয়াজ, ডাল সবজি ইত্যাদি।

মেহেরপুর জেলার প্রধান ফলমূল কি কিঃ সুস্বাদু আম, লিচু, জাম, কাঁঠাল, সফেদা প্রভৃতি ।

মেহেরপুর জেলার নদ-নদীঃ ৪টি; ভৈরব, কাজলা, ছেউটিয়া ও মাথাভাঙ্গা। মৎস্য সম্পদ, সাদামাটি প্রভৃতি ।

মেহেরপুর জেলার প্রাকৃতিক সম্পদঃ মৎস সম্পদ,সাদামাটি।

মেহেরপুর জেলার পত্র পত্রিকাঃ দৈনিক মেহেরপুর, দৈনিক আযম, সাপ্তাহিক পরিচয়, সাপ্তাহিক চুম্বক, সাপ্তাহিক মুজিবনগর, সাপ্তাহিক মেহেরপুর, মাসিক সাধক, মাসিক পল্লী শ্রী, পাক্ষিক পশ্চিমাঞ্চল, পাক্ষিক সীমান্ত ইত্যাদি।

মেহেরপুর জেলার জেলা প্রশাসকঃ আপডেট জেনে নিবেন।

মেহেরপুর জেলার নামকরণ

মেহেরপুর নামকরণ সম্পর্কে দুটি কিংবদন্তী রয়েছে। একটি হচ্ছে, মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হতেই এ অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু হয়েছিল। বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বারোবাজার, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরসহ প্রভৃতি অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ইসলাম প্রচার শুরু করেন হযরত খান জাহান আলী (রঃ)। এ অঞ্চলে ঐ একই সময়েই বেশ কয়েকজন ইসলামের ঝাণ্ডাবাহক আল্লাহর পরম আশীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তিত্বের আগমন ঘটে। তাঁদের মধ্যে দরবেশ মেহের আলী নামীয় জনৈক ব্যক্তির নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ষোড়শ শতকের অথবা তার কিছুকাল পরে মেহেরপুর নামকরণের সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয় কিংবদন্তীটি হল, বিখ্যাত বচনকার মিহির ও তাঁর নিজের পুত্রবধূ খনা ভৈরব নদীর তীরস্থ এ অঞ্চলে বাস করতেন। তার নামানুসারে প্রথমে মিহিরপুর এবং পরবর্তীতে অপভ্রংশে মেহেরপুর নামকরণ হয়েছে বলে অনুমান করা হয়।

মেহেরপুর জেলার ঐতিহ্য: মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, মুজিবনগর আম্রকানন, ভবানন্দপুর মন্দির, আমদহ গ্রামের স্থাপত্য নিদর্শন, আমঝুপি নীলকুঠি, ভাটপাড়ার নীলকুঠি, সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, মেহেরপুর পৌর কবরস্থান, মেহেরপুর শহীদ স্মৃতিসৌধ প্রভৃতি।

মেহেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান: মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ ও ঐতিহাসিক আম্রকানন, মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স, মেহেরপুর শহীদ স্মৃতিসৌধ, আমদহ গ্রামের স্থাপত্য নিদর্শন, সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, আমঝুপি নীলকুঠি, গাংনী উপজেলা ভাটপাড়ার নীলকুঠি, ভবানন্দপুর মন্দির, মেহেরপুর পৌর কবরস্থান, পৌর ঈদগাহ, মেহেরপুর পৌর হল প্রভৃতি । পুরাকীর্তি :

আমদহ গ্রামের স্থাপত্য নিদর্শন: মেহেরপুর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ন নিদর্শন মেহেরপুর শহর থেকে ৪ কিঃমিঃ পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থিত আমদহ গ্রামের স্থাপত্য কীর্তি। প্রায় এক বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই প্রত্নস্থানের চারদিকে ছিল পরিখা, কিন্তু পরিখার বেষ্টনীতে কোন প্রাচীর ছিলনা। এখন এই প্রত্নস্থানের কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে এখানকার মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা একটি প্রত্নস্তন পুরাতন জেলা প্রশাসক ভবনের সামনে স্থাপন করা হয়েছে।

সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির: মেহেরপুর শহরের বড় বাজারে অবস্থিত সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরটিকে স্থানীয় হিন্দুরা জেলা কেন্দ্রীয় মন্দির হিসেবে গণ্য করে। মন্দিরের ভিতরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বালা দেবীর বিগ্রহ। প্রতি বছরই এখানে কালী পূজা, দূর্গাপূজা, সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বৈশাখ মাসের শেষ সংক্রান্তিতে এই মন্দিরকে ঘিরে বসে বৈশাখ সংক্রান্তির মেলা।

আমঝুপি নীলকুঠি: নীল চাষ ও নীলকরদের দীর্ঘ ইতিহাস মেহেরপুর বুকে জড়িয়ে রেখেছে। ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত জন ফিলিপস্ – এর নীলচাষ বিষয়ে রচিত গ্রন্থে বলা হয়েছে যে মশিয়ে লুই বান্নো বা বোনার্দ নামক জনৈক ফরাসি ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রথম নীল চাষ শুরু করেছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমঝুপি নীলকুঠি ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দ অথবা এরও কিছুকাল পরে স্থাপিত হয়েছে।

ভাটপাড়ার নীলকুঠি : ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত ধ্বংসপ্রায় এই নীলকুঠিটি ইট, চুন-শুরকি দ্বারা নির্মাণ করা হয়। এর ছাদ লোহার বীম ও ইটের টালি দিয়ে তৈরি। এই কুঠির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কাজলা নদী।

ভবানন্দপুর মন্দির সদর উপজেলার ভবানন্দপুর গ্রামে অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরটি। মন্দিরটির স্থাপত্যশৈলী দেখে এটিকে বৌদ্ধ মন্দির মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি হিন্দু মন্দির।

মেহেরপুর জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব

মরমী সাধক ও চারণ কবি আজাদ শাহ, স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা আ.ক.ম. ইদ্রীস আলী, সাধক আতাহার সাহ, শিক্ষক ও রাজনীতিবিদ আব্দুল মান্নান, শিক্ষাবিদ ড. আবদূর রশিদ, মরমী সাধক আরজান সাহ, লেখক কিরণ কুমার বোস, নাট্য অভিনেতা প্রসেনজিৎ বোস বাবুয়া, সঙ্গীত শিল্পী মীর মোজাফ্ফর আলী, রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ সহিউদ্দিন, অর্থনীতিবিদ ডক্টর গোলাম কিবরিয়া, নদীয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ভবানন্দ মজুমদার, হাঁড়ী সম্প্রদায়ের প্রবক্তা ও প্রখ্যাত মরমী সাধক বলরাম হাঁড়ী, শিক্ষাবিদ নুরুল হক, পদার্থবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. মোঃ মোজাম্মেল হক, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মোঃ শাহ আলম, রাজনীতিবিদ মোঃ জয়নাল আবেদীন, জাতীয় বেতার শিল্পী আশরাফ মাহমুদ প্রমুখ।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা:

  • খোন্দকার আবদুর রশিদ
  • মোঃ ফজলুর রহমান
  • শাকাতুল্লাহ
  • মোঃ মনসুর আলী
  • মহসিন মহরম আলী
  • ইউনুস আলী
  • রহমান আলী খান
  • আলীম উদ্দিন মণ্ডল
  • রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র

প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ ঘোষণা প্রবাসী মুজিবনগর সরকার পরিচালনার অন্তবর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে কার্যকর হয়। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে গণপরিষদ সদস্য এম ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

সংসদীয় আসন- ২টি ।

৭৩-মেহেরপুর-১,মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর

৭৪-মেহেরপুর-২,গাংনী উপজেলা

৩০৭-সংরক্ষিত মহিলা আসন-৭

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button