বাংলা একাডেমি প্রণীত বাংলা বানানের নিয়ম (উদাহরণসহ)

প্রশ্ন:  বাংলা একাডেমি প্রণীত বাংলা বানানের কয়েকটি নিয়ম (উদাহরণসহ)

অথবা,

আধুনিক বাংলা বানানের কয়েকটি নিয়ম

(উদাহরণসহ)

অথবা

প্রমিত বাংলা বানানের কয়েকটি নিয়ম (উদাহরণসহ)

 

উত্তর:

ক) সংস্কৃত শব্দের বানান যথাসম্ভব অপরিবর্তিত থাকবে। তবে যে সকল শব্দের বানানে দীর্ঘস্বর (‘ঈ’ এবং ‘ঊ’) এর পরিবর্তে হ্রস্বস্বর (‘ই’ এবং ‘উ’) ব্যবহার করলে অর্থের কোনো পরিবর্তন হয় না সেসকল শব্দের বানানে হ্রস্বস্বর ব্যবহার করতে হবে। যেমন: সরকারি, দরকারি, ইলিশ, বাড়ি, গাড়ি, শাড়ি, সোনালি, ঊষা, উনিশ, পুব, নতুন প্রভৃতি।

খ) দেশ বা জাতি বা ভাষার নামের বানানে ‘ই’ বা ‘ই কার’ হবে। যেমন: আরবি, ফারসি, বাঙালি, চিনা, ইরানি, জার্মানি প্রভৃতি।

গ) সাধারণত রেফ যুক্ত বর্ণে য-ফলা (্য) বা দ্বিত্ব ব্যঞ্জন হবে না। যেমন: সূর্য, কার্য, কার্যালয়, ধর্ম, কর্ম, ধৈর্য প্রভৃতি।

ঘ) শব্দের শেষে হসন্ত (্) হবে না। যেমন: মন, বন, তাল, কোন, পাক, জান, পরান প্রভৃতি।

ঙ) শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) হবে না। যেমন: সাধারণত, বিশেষত, মূলত, আপাতত,  প্রধানত প্রভৃতি।

চ) সন্ধির ক্ষেত্রে ক,খ,গ.ঘ-এর পূর্বে ম থাকলে ম-এর স্থলে ং হবে। যেমন: অহম্ + কার = অহংকার । এরুপভাবে ভয়ংকর, সংগীত, হৃদয়ংগম ইত্যাদি। তবে, সন্ধিবদ্ধ শব্দ না হলে না হয়ে ং বা ঙ হবে। যেমন: অঙ্ক, আকাঙ্ক্ষা, সঙ্গে, বঙ্গ প্রভৃতি।

ছ) বিদেশি শব্দের বানানে প্রতিবর্ণ করার ক্ষেত্রে ইংরেজি শব্দের বানানে S এর পরিবর্তে স, SH এর পরিবর্তে শ এবং আরবি ‘সিন’ এর পরিবর্তে স বা ছ এবং ‘শিন’ এর পরিবর্তে শ ব্যবহৃত হবে। যেমন: স্টেশন, ইংলিশ, শেক্সপীয়র, ইয়াসিন, ইনশাআল্লাহ্ ইত্যাদি।

জ) বিশেষণ, সংখাবাচক শব্দ ও অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়ায় শব্দের শেষে ‘অ’-এর স্থলে ‘ও’ হয়। যেমন: কালো, ভালো, পনেরো, ছোটো, খাটো ইত্যাদি।

তবে, ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞায় শব্দের আদিতেও ‘ও’-কার হতে পারে। যেমন: চোলো, বোলো, পোড়ো, কোরো ইত্যাদি।

ঝ) বিশেষণবাচক আলি’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ‘ ই কার ‘ হয়। যেমন: মিতালি, বর্ণালি, গীতালি, সোনালি, দীপালি প্রভৃতি।

ঞ) আবলি’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ‘ ই কার ‘ হয়। যেমন: গ্রন্থাবলি, পুস্তকাবলি, বিষয়াবলি, কার্যাবলি ইত্যাদি।

 

বি.দ্র. পরীক্ষায় যে কয়টি নিয়ম চাওয়া হবে, সেই কটিই দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button