পঞ্চগড় জেলা সম্পর্কিত সকল তথ্য (যে কোন পরিক্ষার জন্য)

 

 পঞ্চগড় জেলা

 

পঞ্চগড় জেলা কোন নদীর তীরে অবস্থিতঃ  করতোয়া।

পঞ্চগড় জেলা  জেলা প্রতিষ্ঠা হয় কবেঃ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারি।

পঞ্চগড় জেলা মহকুমা প্রতিষ্ঠা হয় কবেঃ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুযারি

পঞ্চগড় জেলার আয়তন কতঃ১,৪০৪,৬৩ বর্গ কিলোমিটার।

পঞ্চগড় জেলা্র সীমানাঃউত্তরে ভারতের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলা; দক্ষিণে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলা; পূর্বে নীলফামারী জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।

পঞ্চগড় জেলার ভৌগোলিক অবস্থানঃ ২৬°২০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ ৩৪´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।

পঞ্চগড় জেলার বার্ষিক গড় তাপমাত্রাঃ সর্বোচ্চ ৩০.২০° সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ১০.১০° সেলসিয়াস

পঞ্চগড় জেলার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কত মিলিমিটারঃ ১৯৩১ মিলিমিটার।

পঞ্চগড় জেলায় উপজেলা কতটিঃ ৫টি; পঞ্চগড় সদর, বোদা, তেঁতুলিয়া, দেবীগঞ্জ ও আটোয়ারী ।

পঞ্চগড় জেলায় পৌরসভা কতটিঃ২টি; পঞ্চগড় ও বোদা ।

পঞ্চগড় জেলায় ইউনিয়ন কতটিঃ ৪৩ টি।

পঞ্চগড় জেলার পোস্ট কোড কতঃ ৫০০০।

পঞ্চগড় জেলার এন ডব্লিউ ডি কোড কতঃ০৫৬৮।

ঢাকা থেকে পঞ্চগড় জেলার দূরত্ব কতঃ সড়ক পথে ৪৭৫ কি. মি. ও রেলপথে ৫১২ কি.মি.

পঞ্চগড় জেলার জনসংখ্যা কতঃ৯,৮৭,৬৪৪ জন (২০১১ খ্রিস্টাব্দের আদমশুমারী অনুযায়ী)

পঞ্চগড় জেলায় জনসংখ্যার ঘনত্ব কতঃ ৭০৩ জন (প্রতি বর্গ কি.মি.) ।

পঞ্চগড় জেলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কতঃ ১.৬৫%।

পঞ্চগড় জেলায় শিক্ষার হার কতঃ৫১.০৮%।

পঞ্চগড় জেলার উপজাতিঃ রাজবংশী, কোচ, পলিয়া, সাঁওতাল, ওঁরাও, হাড়ি, বেহারা, কাহার, সুনরি ইত্যাদি।

পঞ্চগড় জেলার প্রধান ফসলঃ ধান, পাট, গম, চা, ভুট্টা, আলু, শাক-সবজি ইত্যাদি। করতোয়া, তালমা, চাওয়াই, পাঙ্গা, কুরুম, পাম, পাথরাজ,

পঞ্চগড় জেলার নদ-নদীঃ করতেয়া, তালমা,চাওয়াই,পাঙ্গা,কুরুম,পাম,পাঘরাজ,ঘোড়ামারা, মরাতিস্তা, আত্রাই, ভুলী, নাগর, সিংগিয়া, বহু, রসেয়া,

মহানন্দা, ডাহুক, তিরনই, রণচণ্ডি, বেরং, সাও প্রভৃতি ।

পঞ্চগড় জেলার প্রাকৃতিক সম্পদঃ উল্লেখযোগ্য কোন প্রাকৃতিক সম্পদ নেই ।

পঞ্চগড় জেলার খনিজ সম্পদঃ বালি পাথর, চুনা পাথর, কাদা পাথর, নুড়ী পাথর, পানিশাল কাঠ ইত্যাদি।

পঞ্চগড় জেলার পত্র পত্রিকাঃ সাপ্তাহিক পঞ্চগড় বার্তা (বিলুপ্ত),পঞ্চবার্তা, পাক্ষিক এই সময় প্রভৃতি ।

জেলা প্রশাসকঃআপডেট জেনে নিবেন।

পঞ্চগড় জেলার প্রথম জেলা প্রশাসক কেঃআ.স.ম. আব্দুল হালিম।

পঞ্চগড় জেলার প্রথম মহকুমা প্রশাসক কেঃসৈয়দ আব্দুর রশিদ

পঞ্চগড় জেলার নামকরণ

 পঞ্চগড় নামকরণ সমন্ধে কেউ কেউ মনে করেন যে, এ অঞ্চলটি অতি প্রাচীনকালে পুণ্ড্রনগর রাজ্যের অর্ন্তগত ‘পঞ্চনগরী’ নামে একটি অঞ্চল ছিল। কালক্রমে পঞ্চনগরী ‘পঞ্চগড়’ নামে আত্মপ্রকাশ করে। ভারতীয় উপমহাদেশে ‘পঞ্চ’ (পাঁচ) শব্দটি বিভিন্ন স্থানের নামের সাথে যুক্ত হয়েছে। যেমন- পঞ্চনদ, পঞ্চবটি, পঞ্চনগরী, পঞ্চগৌড় ইত্যাদি। সুতরাং পঞ্চগৌড়ের একটি অংশ হিসেবে প্রাকৃত ভাষার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পঞ্চগড়ের নামকরণের সম্ভাবনা থেকে যায়। অর্থাৎ > পঞ্চগোড় > পঞ্চগড়। অবশ্য বহুল প্রচলিত মত এই যে, এই অঞ্চলের পাঁচটি গড়ের সু অবস্থানের কারণেই পঞ্চগড় নামটির উৎপত্তি। গড়গুলো হচ্ছে- ভিতরগড়, মীরগড়, হোসেন রাজনগড় ও দেবেনগড়।

পঞ্চগড় জেলার ঐতিহ্য

 চা বাগান, বাংলাদেশের একমাত্র রকস মিউজিয়াম, মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ডাকবাংলো যেখান থেকে দুই বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় প্রভৃতি পূর্ণ

পঞ্চগড় জেলার দর্শনীয় স্থান 

 বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট: হিমালয়ের কোলঘেঁষে বাংলাদেশের সর্বোত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া। এই উপজেলার ১নং বাংলাবান্ধা ইউনিয়নে অবস্থিত বাংলাদেশের মানচিত্রের সর্বোত্তরের বাংলাবান্ধা জিরো (০) পয়েন্ট।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর: তেঁতুলিয়া উপজেলার ১নং বাংলাবান্ধা ইউনিয়নে অবস্থিত বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর মহানন্দা নদীর তীর ও ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন প্রায় ১০ একর জমিতে ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়। এ বন্দরের মাধ্যমে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সাথে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম চলছে। এটি বাংলাদেশের একমাত্র স্থলবন্দর যার মাধ্যমে তিনটি দেশের সাথে সুদৃড় যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়াও আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুরে বার আউলিয়া মাজার শরীফ ও মির্জাপুর শাহী মসজিদ (৪০০ বছরের পুরাতন), সদর উপজেলার ভিতরগড়, ভিতরগড়ের মহারাজার দীঘি। ভিতরগড় দুর্গনগরী, রকস্ মিউজিয়াম (সরকারি মহিলা কলেজে), ধাক্কামারার মিরগড়, পঞ্চগড়ের এশিয়ান হাইওয়ে, দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গায় গোলকধাম মন্দির, তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া ডাক-বাংলো, বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির, সমতল ভূমিতে চা বাগান, কাজলদীঘি, দেবীগঞ্জের করতোয়া ব্রিজ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

পঞ্চগড় জেলার পুরাকীর্তি :

রকস্ মিউজিয়াম: পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ চত্বরে ২০০০ খ্রিস্টাব্দে উক্ত কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ নাজমুল হকের প্রচেষ্টায় রকস্ মিউজিয়ামটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উক্ত মিউজিয়ামে পঞ্চগড় জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক ও লোকজ সংগ্রহ রয়েছে প্রায় ১,০০০ এরও বেশি।

এছাড়াও রয়েছে মহারাজার দীঘি, ভিতরগড়, মিরগড়, বদেশ্বরী মন্দির, মির্জাপুর শাহী মসজিদ, বার আউলিয়া মাজার, গোলকধাম মন্দির, তেঁতুলিয়া ডাক-বাংলো প্রভৃতি।

পঞ্চগড় জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব: ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ সুলতান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার মির্জা গোলাম হাফিজ, চিত্রনায়ক আব্দুর রহমান প্রমুখ।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকঃ এ্যাডঃ সিরাজুল ইসলাম, এ্যাডঃ কমরউদ্দিন আহমেদ (এম এল এ), এ্যাডঃ মোশারফ হোসেন চৌধুরী (এম এল এ), কাজী হাবিবর রহমান, আব্দুল জব্বার, কোম্পানি কমান্ডার মাহবুব আলম, মোঃ মতিয়ার রহমান, মোঃ তরিকুল ইসলাম, মোঃ মোকলেছুর রহমান, মোঃ দুলাল হোসেন, আব্দুর রহমান, আব্দুল গণি প্রমুখ।

পঞ্চগড় জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা:

  •  বিজমত আলী
  • মতিয়ার রহমান
  • দবির উদ্দিন
  • সমারু মহাম্মদ
  • মোঃ মকবুল হোসেন
  • শরিফ উদ্দিন
  • খতিব উদ্দিন
  • বীর বিক্রম সকিম উদ্দিন প্রমুখ।

 

অন্যান্য- পঞ্চগড়কে হিমালয়কন্যা বলা হয়।

 

সংসদীয় আসন- ২টি।

 

সংসদীয় আসন

১-পঞ্চগড়-১,নির্বাচনী এলাকা-পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলা

২- পঞ্চগড়-২,নির্বাচনী এলাকা-বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button