নামাজের সানা বাংলা অর্থ সহ, আরবি ও আরবি উচ্চারণ

নামাজের সানা

সানা কি?

সানা কেবল একটি নয়। বিভিন্ন হাদিসের বর্ণনায় দেখা যায় একাধিক সানা পড়ার দিকনির্দেশনাও রয়েছে। নামাজে সানা পড়া সুন্নাত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবিরে তাহরিমার পর সানা গুলো পড়তেন। এক হাদিসে উঠে এসেছে যে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবিরে তাহরিমা ও সুরা ফাতিহার মধ্যবর্তী সময়ে বেশ কিছু সময় নিরব থাকতেন। আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিগ্যেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমার বাবা-মা আপনার জন্য কুর’বান হোক, আপনি তাকবিরে তাহরিমার পর নিরব থে’কে কি বলেন? তিনি বললেন যে, আমি তখন পাঠ করি –

আরবি তে সানা
اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنْ الدَّنَسِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ

সানা র উচ্চারণ

নামাজের সানা
নামাজের সানা

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা বায়িদ বাইনি ওয়া বাইনা খাতাইয়াইয়া, কামা বাআদ্তা বাইনাল মাশরিক্বি ওয়াল মাগরিবি; আল্লাহুম্মা নাক্কিনি মিন খাতাইয়াইয়া কামা ইউনাক্কাছ্ ছাওবুল আবইয়াদু মিনাদ্দানাসি, আল্লাহুম্মাগসিলনি মিন খাতাইয়াইয়া বিল মায়ি, ওয়াছ্ছালজি, ওয়াল বারাদি।’

সানার বাংলা অর্থ

অর্থ : ‘হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে আমার পাপ’গুলো থেকে এত দূরে রেখো যেমন পূর্ব ও পশ্চিম পরস্পর’কে পরস্পর থেকে দূরে রেখেছ। হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে আমার পাপ হতে এমন ভাবে পরিষ্কার করে দাও, যেমন সাদা কাপড়’কে ময়লা হতে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে আমার পাপ হতে (পবিত্র করার জন্য) পানি, বরফ ও শিশির দ্বারা ধুয়ে পরিষ্কার করে দাও।’ (বুখারি ও মুসলিম)

– হজরত আয়েশা রাদিয়া’ল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাজ আরম্ভ করতেন তখন বলতেন-

আরবি তে সানা

سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَ بِحَمْدِكَ وَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَ تَعَالِىْ جَدُّكَ وَ لَا اِلَهَ غَيْرُكَ

সানা র উচ্চারণ

উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা। (তিরমিজি, আবু দাউদ মিশকাত)

সানার বাংলা অর্থ

অর্থ : হে আল্লাহ্! আমি তোমার পবিত্র’তা বর্ণনা করছি। তুমি প্রশংসা’ময়, তোমার নাম বরকত’ময়, তোমার মর্যাদা অতি উচ্চে, আর তুমি ব্যতীত সত্যিকার কোনো মাবুদ নেই।

– হজরত আলি রাদি’য়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবিরে-তাহরিমার পর এ দোয়া পড়তেন-

আরো পড়ুন- রোজা ভঙ্গের কারণ কি কি? রোজা মাকরুহ হবার কারণ গুলো

আরো পড়ুন- নামাজে মনোযোগী হওয়ার উপায়

আরো পড়ুন- ওযু কাকে বলে? ওযুর ফরজ কয়টি ও কি কি?

আরবি তে সানা

وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِيْ فَطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأرْضَ حَنِيْفاً، وَمَا أنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْنُ، إنَّ صَلَاتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ لله رَبِّ الْعَالَمِيْن، لَا شَرِيْكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أمِرْتُ وَأنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْن، اَلَّلهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إلَهَ إلَّا أنْتَ، أنْتَ رَبِّي وَأنَا عَبْدُكَ، ظَلَمْتُ نَفْسِيْ، اِعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْلِيْ ذُنُوْبِيْ جَمِيْعاً، إنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إلَّا أنْتَ، وَاهْدِنِيْ لِأحْسَنِ الْأخْلَاقِ، لَا يَهْدِيْ لِأحْسَنِهَا إلَّا أنْتَ، وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إلَّا أنْتَ، لَبَّيِكَ وَسَعْدَيِكَ وَالْخَيْرَ بَيْنَ يَدَيْكَ، وَالشَّرُّ لَيْسَ إلَيْكَ، أنَا بِكَ وَإلَيْكَ، تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ أسْتَغْفِرُكَ وَأتُوْبُ إلَيْكَ

সানা র উচ্চারণ

উচ্চারণ : ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়্যা লিল্লাজি ফাত্বারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকিন। ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়াইয়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রব্বিল আলামিন, লা শারিকালাহু ওয়া বিজালিকা ওমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমিন। আলাহুম্মা আংতাল মালিকু লা ইলাহা ইল্লা আংতা; আংতা রব্বি ওয়া আনা আবদুকা জালামতু নাফসি। ওয়া তারাফতু বিজাম্বি, ফাগফিরলি জুনুবি জামিআ; ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা; ওয়াহদিনি লিইহসানিল আখলাক্বি; লা ইয়াহদি লিইহসানিহা ইল্লা আংতা; ওয়াসরিফ আন্নি সাইয়্যিআহা লা ইয়াসরিফু আন্নি সাইয়্যিআহা ইল্লা আংতা; লাব্বাইকা ওয়া সাদাইকা ওয়াল খাইরা বাইনা ইয়াদাইকা ওয়াশশাররু লাইসা ইলাইকা; আনা বিকা ওয়া ইলাইকা; তাবারাকতা ওয়াতাআলাইতা আসতাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইকা। (মুসলিম, মিশকাত)

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button