ঠাকুরগাও জেলার সকল তথ্য (যে কোন পরীক্ষার জন্য)

ঠাকুরগাঁও জেলা পরিচিতি

ঠাকুরগাঁও জেলা পরিচিতি

ঠাকুরগাঁও জেলার পুরাতন নাম: নিশ্চিন্তপুর।

ঠাকুরগাঁও জেলা কোন নদীর তীরে অবস্থিত: টাঙ্গন।

ঠাকুরগাঁও জেলা কোন বিভাগে অবস্থিত: রংপুর বিভাগে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে: ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারি।

ঠাকুরগাঁও মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে: ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে।

ঠাকুরগাঁও থানা প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে: ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে।

ঠাকুরগাঁও জেলার আয়তন কত: ১,৮১০ বর্গ কিলোমিটার।

ঠাকুরগাঁও জেলার সীমানা: উত্তরে পঞ্চগড় জেলা; দক্ষিণে দিনাজপুর জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য; পূর্বে দিনাজপুর জেলা ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।

ঠাকুরগাঁও জেলার ভৌগোলিক অবস্থান: ২৫৪০ থেকে ২৬°১০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৫৭ থেকে ৮৯°৩২′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ।

ঠাকুরগাঁও জেলার বার্ষিক গড় তাপমাত্রা: সর্বোচ্চ ৩৩.৫° সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ১০.০৫° সেলসিয়াস । বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২,৫৩৬ মিলিমিটার।

ঠাকুরগাঁও জেলার উপজেলা কয়টি: ৫টি; ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর ।

ঠাকুরগাঁও জেলার মোট পৌরসভা কয়টি: ৩টি; ঠাকুরগাও, রাণীশংকৈল ও পীরগঞ্জ ।

ঠাকুরগাঁও জেলার ইউনিয়ন কয়টি: ৫৩টি।

ঠাকুরগাঁও জেলার পোস্ট কোড কত: ৫১০০

ঠাকুরগাঁও জেলার এন ডব্লিউ ডি কোড কত: ০৫৬১

ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও জেলার দূরত্ব কত: সড়ক পথে ৪৫৯ কি. মি. ও রেলপথে ৫৪৮ কি.মি. ।

ঠাকুরগাঁও জেলার জনসংখ্যা কত: ১৩,৯০,০৪২ জন (২০১১ খ্রিস্টাব্দের আদমশুমারী অনুসারে)।

ঠাকুরগাঁও জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব কত: ৭৮০ জন (প্রতি বর্গ কি. মি.) ।

ঠাকুরগাঁও জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত: ১.৩৪%

ঠাকুরগাঁও জেলার শিক্ষার হার কত: ৪৮.৪৩%

ঠাকুরগাঁও জেলার সাক্ষরতার হার কত: ৫২%

ঠাকুরগাঁও জেলায় কোন কোন উপজাতি বসবাস করে: মুণ্ডা, বোর্ডো, সাঁওতাল, ওড়াও, কোচ, পলিয়া, রাজবংশী, হো, মাহতোমালো, কুমার, হাড়ি, ভূঁইয়া, গাংঘু প্রভৃতি।

ঠাকুরগাঁও জেলার প্রধান ফসল কি কি: ধান, গম, আখ, ভুট্টা, মরিচ, আদা, হলুদ, শাক-সবজি ইত্যাদি।

ঠাকুরগাঁও জেলার নদ-নদী: টাঙ্গন, কুলিক, নাগর, তীরনই, পাথরাজ, ভুলী, দীপা, জুলেই,চুরামাটি ইত্যাদি।

ঠাকুরগাঁও জেলার খনিজ সম্পদ: সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের সেনুয়া ব্রিজের সন্নিকটে গভীর নলকূপ থেকে উষ্ণ পানির প্রসবণ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছু নেই

ঠাকুরগাঁও জেলার স্থানীয় পত্র পত্রিকা: দৈনিক লোকায়ন, সাপ্তাহিক জনৱৰ, দৈনিক নবায়ন প্রভৃতি।

ঠাকুরগাঁও জেলার জেলা প্রশাসক: আপডেট জেনে নিবেন।

 

ঠাকুরগাঁও জেলা সম্পর্কে আরও তথ্য

ঠাকুরগাঁও  জেলার পটভূমি

সতের শতাব্দীর কুচবিহারের মানচিত্রে ঠাকুরগাঁও ও নিশ্চিন্তপুর নামে দু’টি আলাদা জায়গা চিহ্নিত রয়েছে। টাঙ্গন নদীর পূর্ব প্রাপ্তে দেখানো হয়েছে নিশ্চিন্তপুর এবং এরই কিছুটা উত্তর-পশ্চিমে টাঙ্গন নদীর পশ্চিম প্রান্তে দেখানো হয়েছে ঠাকুরগাঁও। টাঙ্গন নদীর পূর্ব প্রান্তের নিশ্চিন্ত পুরকেই পরবর্তীতে ঠাকুরগাঁও নাম দিয়ে সদরের নামকরণ করা হয়। আর এর মাধ্যমেই নিশ্চিন্তপুর রূপান্তরিত হয় ঠাকুরগাঁওয়ে।

ঠাকুরগাঁও জেলার নামকরণ

বর্তমানে জেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তরে আকচা ইউনিয়নের একটি মৌজায় নারায়ণ চক্রবর্তী ও সতীশ চক্রবর্তী নামে দুই সম্পদশালী ও প্রভাবশালী ভাই বসবাস করতেন। লোকজন সেই চক্রবর্তী বাড়িকে ঠাকুরবাড়ি বলতেন। পরে স্থানীয় লোকজন এই জায়গাকে ঠাকুরবাড়ি থেকে ঠাকুরগাঁও বলতে শুরু করে। চক্রবর্তীদের অনুরোধে জলপাইগুড়ির জমিদার সেখানে একটি থানা স্থাপনের জন্য বৃটিশ সরকারকে রাজি করান। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের গোড়ার দিকে এখানে একটি থানা স্থাপন করে তার নাম দেওয়া হয় ঠাকুরগাঁও থানা। পরবর্তীতে নানা কারণে টাঙ্গন নদীর পূর্ব তীরে নিশ্চিন্তপুরে ঠাকুরগাঁও থানা স্থানান্তরিত হয়। আর এই থানাকে কেন্দ্র করে বর্তমান ঠাকুরগাঁও জেলা গড়ে উঠেছে।

ঠাকুরগাঁও জেলার ঐতিহ্য

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, প্রাচীন পুকুর ও গড়, লোকসাহিত্য, লোকনৃত্য, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, বাউল, মুর্শিদি, মারফতী, কবিগান, যাত্রা, জারী গান, কীর্তন, পালাগান, ধামের গান, পল্লীগীতি ইত্যাদি।

 

ঠাকুরগাঁও জেলার দর্শনীয় স্থান

রানীশংকৈল উপজেলার জগদলে বিরেন্দ্র নাথ চৌধুরীর পরিত্যাক্ত জগদ রাজবাড়ি, নেকমরদ ইউনিয়নে অবস্থিত গোরক্ষনাথ মন্দিরসহ কূপ ও শিলালিপি, পীর নাছিরউদ্দীন শাহ্ এর মাজার শরীফ, রাজা টংকনাথের জমিদার বাড়ি, মহেশপুর গ্রামে অবস্থিত মহালবাড়ি মসজিদ, নন্দুয়ার ইউনিয়নের শিয়ালডাঙ্গীতে মবস্থিত ছোট রানীদীঘি, মালদুয়ার দুর্গ, গড়গ্রাম দুর্গ, বাংলা গড়, বাসনাহার আদর্শ গ্রাম পুকুর, ঠাকুরগাঁও শহরে গোবিন্দনগর মন্দির, ঢোলরহাট মন্দির, কোরমখান গড়, উপজেলা সদরের উত্তরগাঁও গ্রামের রামরাই দীঘি (রানীসাগর), হোসেনগাঁও ইউনিয়নের খুনিয়া দীঘি স্মৃতিসৌধ, ভুলাহাটের নিকটে সাটি বুরুজ, জামালপুর জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ, ভাউলারহাটের নিকটে শালবনে অবস্থিত শালবাড়ি মসজিদ ও ইমামবাড়ি, হরিপুর উপজেলার হরিপুর জমিদার বাড়ি, হরিপু, রাজবাড়ি শিব মন্দির, মেদিনীসাগর গ্রামে মেদিনীসাগর জামে মসজিদ, গেদুড়া ইউনিয়নে গেদুড় মসজিদ, ভাতুরিয়া গ্রামে গড় ভবানীপুর, পীরগঞ্জ উপজেলার ভেমটিয়া শিবমন্দির, জাবরহাট ইউনিয়নের হাটপাড়ায় অবস্থিত রাজভিটা, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সনগাঁ নামক গ্রামে সনগা শাহী মসজিদ, হরিণমারী হাটে হরিণমারী শিব মন্দির, বেলতলা গ্রামে গড়খাঁড়ি দুর্গ, বলাকা উদ্যান, টাঙ্গন ব্যারেজ, বালিয়াডাঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী সূর্যপুরী আমগাছ, লস্করা দীঘি, টুপুলী দীঘি, শাসলা ও পেয়ালা দীঘি, ঠাকুর দীঘি (দানারহাট), খুরুম থুয়া দীঘি, আধার দীঘি, হরিণমারী দীঘি, রতন দীঘি প্রভৃতি।

 

ঠাকুরগাঁও জেলার পুরাকীর্তি

জগদল রাজবাড়ি: রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পশ্চিমে জগদল নামক স্থানে নাগর ও তীরনই নদীর মিলনস্থলে প্রায় ধ্বংসাবশেষে পরিণত জগদল রাজবাড়ির অবস্থান। রাজবাড়িটির সম্ভাব্য নির্মাণকাল ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ। জগদলের রাজকুমার ছিলেন শ্রী বীরেন্দ্র কুমার। তাঁর সঙ্গে বাকীপুরের জমিদার রায় পূর্ণেন্দু নারায়ণ সিংহের পুত্র শ্রী নলিনী রঞ্জনের কনিষ্ঠা কন্যা শ্রীমতি আশালতা দেবীর বিয়ে হয়। বীরেন্দ্র কুমার সুশিক্ষিত ছিলেন এবং তিনি গড়ে তুলেছিলেন সমৃদ্ধ পাঠাগার।

প্রাচীন রাজধানীর চিহ্ন নেকমরদ: রানীশংকৈল উপজেলার ভবানন্দপুরে (বর্তমান নেকমরদ) খরস্রোতা কাইচা নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল প্রাচীন জনপদ। পরবর্তীতে নেকমরদ ও তার নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে মাটির নিচে পাওয়া যায় প্রাচীন ইমারতের ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন। দুর্গ, দীঘি, মন্দির মণ্ডপ, পাথর-ব্রোঞ্জের স্মৃতিসহ অসংখ্য ছোটবড় পাথরের নিদর্শন এ অঞ্চলে প্রাচীন সমৃদ্ধ জনপদের স্মৃতিই বহন করছে।

 

ঠাকুরগাঁও জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি

  • মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার আহমেদ হোসেন।
  • প্রখ্যাত রাজনীতিক মুহম্মদ দবিরুল ইসলাম।
  • মির্জা রুহুল আমিন।
  • মোঃ রেজওয়ানুল হক (ইদু) চৌধুরী।
  • আলহাজ নূরুল হক চৌধুরী।
  • আবু মোজাফ্ফর ইবনে জাহিদ মোহাম্মদ ইউসুফ।
  • মোঃ ফজলুল করিম, মাওলানা হাফিজ উদ্দীন আহমদ।
  • সমাজ সেবক হাজী কামরুল হুদা চৌধুরী।
  • খোরশেদ আলী আহমদ।
  • আব্দুর রশিদ মিঞা।
  • সৈয়দা জাহানারা।
  • ইঞ্জিনিয়ার ইজাব উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

 

ঠাকুরগাঁও জেলার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক

  • তৎকালীন মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ মোক্তার।
  • ফজলুল করিম এমপি।
  • এ্যাডভোকেট বলরামগুহ ঠাকুরতা।
  • আব্দুর রশীদ মোক্তার প্রমুখ।

 

ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযুদ্ধে নম্বর সেক্টরের অধীন ছিলো- ৭ নম্বর।

 

ঠাকুরগাঁও জেলার অন্যান্য

থুমনিয়া শালবাগান, শাগুনী শালবাগান প্রভৃতি জেলার উল্লেখযোগ্য বন ।

 

ঠাকুরগাঁও জেলার জন প্রতিনিধি

সংসদীয় আসন ৩টি। যথা- 

  • ঠাকুরগাঁও-১, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা(নির্বাচনী এলাকা)।
  • ঠাকুরগাঁও-২,বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলা এবং রানীশংকৈল উপজেলার ইসলাম ধর্মগড় ও কাশিপুর ইউনিয়ন(নির্বাচনী এলাকা)।
  • ঠাকুরগাঁও-৩,(ধর্মগড় ও কাশিপুর ইউনিয়ন ব্যতীত রানীশংকৈল এবং পীরগঞ্জ উপজেলা)।
  • সংরক্ষিত মহিলা আসন-১

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button