ঝিনাইদহ জেলার সকল তথ্য (যে কোন পরিক্ষার জন্য)

ঝিনাইদহ জেলা পরিচিতি

ঝিনাইদহ জেলা পরিচিতি

 

ঝিনাইদহ জেলা কোন নদীর তীরে আবস্থিতঃ কুমার ও নবগঙ্গা।

ঝিনাইদহ জেলা প্রতিষ্ঠিত হয় কবেঃ ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ২৩ ফেব্রুয়ারি।

ঝিনাইদহ মহকুমা প্রতিষ্ঠা করা হয় কবেঃ ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে।

ঝিনাইদহ জেলার আয়তন কতঃ ১,৯৪৯,৬২ বর্গ কিলোমিটার।

ঝিনাইদহ জেলার সীমানাঃ উত্তরে কুষ্টিয়া জেলা, পূর্বে মাগুরা জেলা, দক্ষিণে যশোর ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এবং পশ্চিমে চুয়াডাঙ্গা জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।

ঝিনাইদহ জেলার ভৌগোলিক অবস্থান কতঃ ২৩°১৫ থেকে ২৩°৪৫′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৪৫ থেকে ৮৯°১৫′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।

ঝিনাইদহ জেলার বার্ষিক গড় তাপমাত্রা কতঃ ২২.২৪° সেলসিয়াস।

ঝিনাইদহ জেলার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কতঃ ১৫২.১৯০ সে. মি. ।

ঝিনাইদহ জেলায় উপজেলা কতটি ও কি কিঃ ৬টি; ঝিনাইদহ সদর, কালীগঞ্জ, কোটচাদপুর, মহেশপুর, শৈলকুপা ও হরিণাকুণ্ড।

ঝিনাইদহ জেলায় পৌরসভা কতটিঃ ৬টি।

ঝিনাইদহ জেলায় ইউনিয়ন কতটি ও কি কিঃ ৬৭টি।

ঝিনাইদহ জেলার পোস্ট কোড কতঃ ৭৩০০।

ঝিনাইদহ জেলার এন ডব্লিউ ডি কোড কতঃ ০৪৫১

ঢাকা ঝিনাইদহ জেলার থেকে দূরত্বঃ সড়ক পথে ২২৮ কি. মি. ও রেলপথে ৪২০ কি.মি. ।

ঝিনাইদহ জেলার জনসংখ্যাঃ ১৭,৭১,৩০৪ জন (২০১১ খ্রিস্টাব্দের আদমশুমারী অনুযায়ী।।

ঝিনাইদহ জেলার জনসংখ্যার ঘনত্বঃ৯০২ জন (প্রতি বর্গ কি.মি.)।

ঝিনাইদহ জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কতঃ ১.১৩

ঝিনাইদহ জেলার শিক্ষার হারঃ ৪৮.৫%।

ঝিনাইদহ জেলার উপজাতিঃ বাগদী, লোহার, মুণ্ডা, ভূমিজ ও ঘাসী

ঝিনাইদহ জেলার নদীঃ ১২টি নবগঙ্গা, সঞ্চয় (ফটকী), কুমার, বেগবতী, কালীগঙ্গা, চিত্রা,বুড়ি, ডাকুয়া, কপোতাক্ষ নদ ইত্যাদি

ঝিনাইদহ জেলার প্রাকৃতিক সম্পদঃ  উল্লেখযোগ্য কোন প্রাকৃতিক সম্পদ নেই

ঝিনাইদহ জেলার খনিজ সম্পদঃ উল্লেখযোগ্য কোন খনিজ সম্পদ নেই।

ঝিনাইদহ জেলার পত্র পত্রিকাঃ দৈনিক নবচিত্র, সাপ্তাহিক সীমান্তবাণী ইত্যাদি।

ঝিনাইদহ জেলার জেলা প্রশাসকঃ আপডেট জেনে নিবেন।

ঝিনাইদহ জেলার নামকরণ

জনশ্রুতি আছে প্রাচীনকালে বর্তমান ঝিনাইদহের উত্তর পশ্চিম দিকে নবগঙ্গা নদীর ধারে ঝিনুক কুড়ানো শ্রমিকের বসতি গড়ে ওঠে। সে সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতা থেকে ব্যবসায়ীরা ঝিনুকের মুক্তা সংগ্রহের জন্য এখানে ঝিনুক কিনতে আসত। সে সময় ঝিনুক প্রাপ্তির এই স্থানটিকে ঝিনুকদহ বলা হত। ঝিনুককে আঞ্চলিক ভাষায় ঝিনেই বা ঝিনাই বলা হত এবং দহ বলতে বড় জলাশয় ও ফার্সি ভাষায় দহ বলতে গ্রামকে বুঝানো হত। সেই অর্থে ঝিনুকদহ বলতে ঝিনুকের জলাশয় অথবা ঝিনুকের গ্রাম বুঝাত। আর এই ঝিনুক এবং দহ থেকেই এসেছে ঝিনুকদহ বা ঝিনেইদহ, যা রূপান্তরিত হয়ে আজকের ঝিনাইদহ নামকরণ হয়েছে। অন্য কিংবদন্তী থেকে জানা যায়, এক ইংরেজ সাহেব এই এলাকা দিয়ে নৌকাযোগে নবগঙ্গা নদী পার হওয়ার সময় নদী থেকে ঝিনুক সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত লোকদের কাছে এলাকাটির নাম জানতে চান। লোকেরা তার কথা বুঝতে না পেরে ভেবে নেন যে নদী থেকে তারা কী জিনিস তুলছে তার নাম জানতে চাচ্ছেন। এই মনে করে লোকেরা সাহেবকে বলেন ঝিনুক বা ঝিনেই। এতে ইংরেজ সাহেব ধরে নেন জায়গাটির নাম ‘ঝেনি’। এই ‘ঝেনি’ শব্দটি পরে ‘ঝেনিদা’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে এবং তা থেকে ঝিনাইদহ নামকরণ হয়েছে। ঝিনাইদহকে আঞ্চলিক ভাষায় এখনও ঝিনেদা বলা হয়।

দর্শনীয় স্থান ও পুরাকীর্তি

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় মরমী কবি পাগলাকানাই এর মাজার, নলডাঙ্গা সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, হরিশংকরপুরে কে.পি বসুর বাসভবন, মুরারীদহে মিয়ার দালান, শ্রী শ্রী মদন মোহন মন্দির, শৈলকুপা উপজেলার শৈলকুপা শাহী মসজিদ, মনোহরপুরে কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ি, কামান্না মুক্তিযুদ্ধ শহীদ মিনার, রামগোপাল মন্দির, রাজা হরিশচন্দ্রের বাড়ি, কাঁচের কোল জমিদার বাড়ি, হরিণাকুণ্ডু উপজেলার জোড়াদাহের হরিশপুরে সিরাজ সাঁই এর মাজার, মরমী কবি ফকির লালন সাই এর ভিটা ও পাঞ্জু শাহ এর মাজার, কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজারের বাদুরগাছায় গাজী কালু চম্পাবতির মাজার, বারবাজারের হাসিলবাগে জাহাজমারী বন্দর, বারবাজারে গলাকাটা মসজিদ ও জোড় বাংলা মসজিদ, দৌলতপুরে ঐতিহাসিক গোড়ার মসজিদ, কাষ্টভাঙ্গার সাতগাছিয়ায় ঐতিহাসিক সাতগাছিয়া মসজিদ, কাষ্টভাঙ্গার ধোপাদিতে ঐতিহাসিক বহু দেওয়ানের মাজার, মহেশপুর উপজেলার হাট খালিশপুর কাচারী বাগান, স্বরূপপুরে দত্তনগর কৃষিখামার, শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি যাদুঘর প্রভৃতি।

বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব

মরমী কবি লালন শাহ (১৭৭২-১৮৯০) : মরমী বাউল কবি লালনশাহ এর জন্মস্থান সম্পর্কে পণ্ডিত ও গবেষকদের মধ্যে মতভেদ আছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ শিষ্য দুদ্দুশাহের বক্তব্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামে ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২ খ্রিস্টাব্দের ১৪ অক্টোবর) লালন শাহ জন্মগ্রহণ করেন। লালনকে সিরাজ সাঁই বাউল মতবাদে দীক্ষা দান করেন। ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ অক্টোবর (১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক) ১১৬ বছর বয়সে লালন শাহ ছেঁউড়িয়ার আখড়ায় দেহত্যাগ করেন।

কর্মবীর মুন্সী মোহাম্মদ মেহেরুলাহ: খ্যাতিমান বাগ্মী, সমাজ সংস্কারক, সাহিত্যিক ও ধর্ম প্রচারক মুন্সী মোহাম্মদ মেহেরুলাহ-এর পৈতৃক বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামে। তিনি ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে ২৬ ডিসেম্বর তৎকালীন যশোর জেলার বর্তমান ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জের ঘোপ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে ৭ জুন পরলোক গমন করেন । বাঘা যতীন: প্রকৃত নাম যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। তিনি ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিষখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এছাড়াও রয়েছেন কালীপদ বসু (কে.পি. বসু), কবি গোলাম মোস্তফা, কবি পাঞ্জু শাহ, কবি পাগলা কানাই, বীর প্রতীক সিরাজুল ইসলাম সর্দার সাখাওয়াতুল্লা (সফতুল্লা), দুঃখী মাহমুদ, শুকচাঁদ শাহ, মোবারক আলী মিয়া (বড় মিয়া), কবি সামসুদ্দীন আহমদ, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, কাজী আহসান হাবীব, অমূল্য শাহ প্রমুখ।

মুক্তিযুদ্ধ: মুক্তিযুদ্ধে ঝিনাইদহ ৮নং সেক্টরে ছিল। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা: বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান এবং বীর প্রতীক- নায়েক শহীদ সিরাজুল ইসলাম।

> বাংলাদেশের ইতিহাসে যুদ্ধ বিজয়ের গৌরবের প্রথম মাইলফলক স্থাপন করে ১ এপ্রিল, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের বিষয়খালীর যুদ্ধ। এই যুদ্ধের কাহিনী প্রথম বিদেশী রেডিও যেমন: বিবিসি, ফরাসি বার্তা সংস্থা এবং অস্ট্রেলীয় রেডিও এবিসিতে প্রচারিত হয়।

অন্যান্য– দক্ষিণ বঙ্গের প্রবেশদ্বার ঝিনাইদহ।

সংসদীয় আসন

সংসদীয় আসন- ৪টি

  • ৮১-ঝিনাইদহ-১: শৈলকুপা উপজেলা
  • ৮২-ঝিনাইদহ-২: নলডাঙ্গা, ঘোড়াশাল, ফুরসুন্দি ও মহারাজপুর ইউনিয়ন ব্যতীত ঝিনাইদহ সিদ্দিকী সদর এবং হরিণাকুণ্ডু উপজেলা।
  • ৮৩-ঝিনাইদহ-৩: কোটচাদপুর ও মহেশপুর উপজেলা।
  • ৮৪-ঝিনাইদহ-৪: কালীগঞ্জ এবং সদর উপজেলার মোঃ নলডাঙ্গা, ঘোড়াশাল, ফুরসুন্দি ও মহারাজপুর ইউনিয়ন।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button