গাইবান্ধা জেলার সকল তথ্য (যে কোন পরীক্ষার জন্য)

গাইবান্ধা জেলা পরিচিতি

গাইবান্ধা জেলা পরিচিতি

গাইবান্ধা জেলার পুরাতন নামঃ ভবানীগঞ্জ।

গাইবান্ধা জেলা কোন নদীর তীরে অবস্থিতঃ যমুনা।

গাইবান্ধা জেলা প্রতিষ্ঠা হয় কবেঃ ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ফেব্রুয়ারি।

গাইবান্ধা মহকুমা প্রতিষ্ঠা হয় কবেঃ ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ আগস্ট।

গাইবান্ধা জেলার আয়তন কতঃ ২১৭৯.২৭ বর্গকিলোমিটার।

গাইবান্ধা জেলার সীমানঃ উত্তরে কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলা: দক্ষিণে বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলা; পূর্বে তিস্তা ও যমুনা নদীর অপর পাড়ে জামালপুর জেলা এবং পশ্চিমে রংপুর, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলা।

গাইবান্ধা জেলার অবস্থানঃ ২০৩ থেকে ২৫ ৩৯° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১২ থেকে ৮৯ ৪২ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।

গাইবান্ধা জেলার বার্ষিক গড় তাপমাত্রাঃ সর্বোচ্চ ৩৩.৫°সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ১০.৫।

বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতঃ ১৯৬৮ মিলিমিটার ।

গাইবান্ধা জেলায় উপজেলা কয়টিঃ ৭টি ।

গাইবান্ধা জেলার পৌরসভাঃ ৩টি: গাইবান্ধা, সুন্দরগঞ্জ ও গোবিন্দগঞ্জ।

গাইবান্ধা জেলায় ইউনিয়ন কতটিঃ ৮২টি।

গাইবান্ধা জেলার পোস্ট কোড কতঃ ৫৭০০

গাইবান্ধা জেলার এন ডব্লিউ ডি কোড কতঃ ০৫৪১

ঢাকা থেকে গাইবান্ধার দূরত্বঃ সড়ক পথে ৩০০ কি. মি. ও রেলপথে ২৭২কি.মি. ।

গাইবান্ধা জেলার জনসংখ্যাঃ ২৩, ৭৯, ২৫৫ জন (২০১১ খ্রিস্টাব্দের আদমশুমারী অনুযায়ী)।

গাইবান্ধা জেলার জনসংখ্যার ঘনত্বঃ ১,১০০ জন (প্রতি বর্গ কি.মি.) ।

গাইবান্ধা জেলার মোট উপজেলা: ৭টি; গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্ল্যাপুর, পলাশবাড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা ।

গাইবান্ধা জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারঃ ১.০৬% ।

গাইবান্ধা জেলার শিক্ষার হারঃ ৪২.৮% ।

গাইবান্ধা জেলার প্রধান ফসলঃ পাট, আখ, গম, আউশ ধান, বোরো ধান, আদা, হলুদ, ভুটা মরিচ, তামাক প্রভৃতি । ব্রহ্মপুত্র, করতোয়া, তিস্তা, ঘাঘট, মানস, বাঙালি ইত্যাদি।

গাইবান্ধা জেলার খনিজ সম্পদঃ উল্লেখযোগ্য কোন খনিজ সম্পদ নেই।

গাইবান্ধা জেলার প্রাকৃতিক সম্পদঃ উল্লেখযোগ্য কোনু প্রাকৃতিক সম্পদ নেই।

গাইবান্ধা জেলার পত্র পত্রিকাঃ দৈনিক ঘাঘট, দৈনিক আজকের জনগণ, দৈনিক মাধুকর, দৈনিক জনসংকেত, সাপ্তাহিক অবিরাম প্রভৃতি ।

জেলা প্রশাসক: আপডেট জেনে নিবেন।

 

গাইবান্ধা জেলার নামকরণ

কিংবদন্তীতে বলা হয়েছে, পাঁচ হাজার বছর আগে মৎস্য দেশের রাজা বিরাটের রাজধানী ছিল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানা এলাকায়। বিরাট রাজার গো-সম্পদের কোন তুলনা ছিল না। তার গাভীর সংখ্যা ছিল ষাট হাজার। মাঝে মাঝে ডাকাতরা এসে বিরাট রাজার গাভী লুন্ঠন করে নিয়ে যেত। রাজার গো-শালাটি সুরক্ষিত এবং গাভীর খাদ্য ও পানির সংস্থান নিশ্চিত করতে নদী তীরবর্তী ঘেসো জমিতে স্থাপন করা হয়। সেই নির্দিষ্ট স্থানে গাভীগুলোকে বেঁধে রাখা হত। এই গাড়ী বেঁধে রাখার স্থান থেকে এতদঞ্চলের কথ্য ভাষা অনুসারে এলাকার নাম হয়েছে ‘গাইবাঁধা’ এবং তা ‘গাইবান্ধা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। গাইবান্ধা জেলার সাথে রাজা বিরাটের সম্পর্কঐতিহাসিকভাবে আজও প্রমাণিত হয়নি।

 

গাইবান্ধা জেলার ঐতিহ্য

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় রাজা বিরাটের প্রাসাদ, নলডাঙ্গার জমিদার বাড়ি, বামনডাঙ্গার জমিদার বাড়ি, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাধীন বর্ধনকুঠি, শাহ সুলতান গাজীর মসজিদ, ভরতখালী কাষ্ঠ মন্দির (কালি মন্দির), মহিমাগঞ্জ চিনিকল, ভবানীগঞ্জ পোস্ট অফিস প্রভৃতি।

 

গাইবান্ধা জেলার দর্শনীয় স্থান

সদর উপজেলার বালাসী ঘাট, ঘেগার বাজার মাজার, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাইতান তলায় অবস্থিত শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাইবান্ধা পৌর পার্ক, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকল, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বর্ধনকুঠি, দাড়িয়াপুরের মীরের বাগানের ঐতিহাসিক শাহ সুলতান গাজীর মসজিদ প্রভৃতি।

 

গাইবান্ধা জেলার পুরাকীর্তি

১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে মহিমাগঞ্জে নির্মিত (রংপুর চিনিকল) মহিমাগঞ্জ চিনিকল, ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত শিবরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলছড়ির উপজেলার ভবানীগঞ্জ গ্রামে অবস্থিত ভবানীগঞ্জ পোস্ট অফিস প্রভৃতি।

 

গাইবান্ধা জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস: বগুড়া জেলার বাসিন্দা কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে (মাতুলালয়ে) জন্মগ্রহণ করেন। চিলেকোঠার সেপাই ও খোয়াব নামা তাঁর উপন্যাস; দুধে ভাতে উৎপাত, দোজখের ওম, অন্য ঘরে অন্যস্বর- প্রভৃতি তাঁর গল্পগ্রন্থ: সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু- তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রস্থ।

এছাড়াও রয়েছেন গণপরিষদের প্রথম স্পিকার শাহ্ আব্দুল হামিদ, খান বাহাদুর আব্দুল মজিদ, গাইবান্ধা মিউনিসিপ্যালিটির প্রথম নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান হামিদ উদ্দিন খাঁ, টি.আই.এম. নুরুন্নবী চৌধুরী, কৃতি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবু হোসেন সরকার, পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ডেপুটি স্পিকার সিরাজউদ্দিন আহম্মেদ, কাজী পেয়ারার উদ্ভাবক কাজী মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা, শিল্পী মাহমুদুজ্জামান বাবু, বীর উত্তম বদিউল আলম, কবি সাকের মাহমুদ, কবি হরিশ চন্দ্র, করি শেষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, কবি নাজীর মোহাম্মদ সরকার, সাহিত্যিক তুলশী লাহিড়ী, সাহিত্যিক দৌলাতুন নেছা খাতুন, সাহিত্যিক ছদরউদ্দিন, ঔপন্যাসিক শামছুল হক, ঔপন্যাসিক মোঃ কছির উদ্দিন, সংকলক আবুল হাসান শামসুদ্দিন প্রমুখ।

 

গাইবান্ধা জেলার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক

লুৎফর রহমান, বাংলাদেশের প্রথম স্পিকার শাহ আব্দুল হামিদ, সোলায়মান মণ্ডল, ডাঃ মফিজুর রহমান, আবু তালেব মিয়া, এ্যাভভোকেট শামসুল হোসেন সরকার, জামালুর রহমান, ওয়ালিউর রহমান রেজা, আজিজার রহমান, নির্মলেন্দু বর্মন, মতিউর রহমান, হাসান ইমাম টুলু, মোহাম্মদ খালেদ, নাট্যকর্মী গোলাম কিবরিয়া, অধ্যক্ষ অহিন উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ ।

 

গাইবান্ধা জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা

  • নজরুল ইসলাম।
  • মাহাবুবার রহমান।
  • শহীদুল হক চৌধুরী।
  • নূরুন্নবী সরকার।
  • ফজলুর রহমান।
  • আবুল হোসেন।
  • আবুল কাশেম।
  • নবীর হোসেন।
  • আঙ্গু মণ্ডল।
  • লতিফ মিয়া।
  • গোলাম রব্বানী।
  • আবুল কাশেম।
  • আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।

 

গাইবান্ধা জেলার সংসদীয় আসন- ৫টি।

গাইবান্ধা জেলার সংসদীয় আসন- ৫টি। যথা-

গাইবান্ধা-১,সুন্দরগঞ্জ উপজেলা।
গাইবান্ধা-২,গাইবান্ধা সদর উপজেলা।
গাইবান্ধা-৩,সাদুল্যাপুর পলাশবাড়ি উপজেলা।
গাইবান্ধা-৪,গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা।
গাইবান্ধা-৫, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা।

 

######

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button